হতে চাইলে ফটোগ্রাফার

হতে চাইলে ফটোগ্রাফার

প্রতিনিয়ত কাজের প্রেশারে যেনো হাঁফ ছেড়ে উঠতে পারলেই বাঁচি।কিন্তু মানুষ মাত্রই স্বাধীনচেতা।আমরা পরাধীনতার শেকলে এতটাই ব্যস্ত হয়ে গেছি যে,নিজের মনের প্রশান্তির জন্য সময় টুকুও দেই না।কিংবা ইচ্ছে থাকলেও উপায় হয়ে উঠে না!
কিন্তু এভাবে আর কতদিন?যদি কাজের মধ্যে শান্তিটুকু না থাকে, তবে সে কাজে ভালো করাও সম্ভব নাহ্।

তাই আমরা যারা একটু স্বাধীনচেতা প্রকৃতির,নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পছন্দ করি,চার দেয়ালের মাঝে বা অন্যের অধিন্যস্ত হয়ে থাকতে চাই না।অথবা যান্ত্রিককতার বা কম্পিটিশনের চাপে হাঁপিয়ে গেছি তাদের জন্য চমৎকার একটা বিষয় হলো ফটোগ্রাফি।

ক্যাম্পাসের যেই বন্ধুটি সবচাইতে ভালো ছবি তুলতে পারে,তার যেনো কদরের কমতি নেই!মনে মনে ইচ্ছে জাগে আমি যদি সেই বন্ধুটি হতে পারতাম!অথবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা উঠলেই মাথায় আসে কিছু সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরা বন্ধি করে রাখা।কিংবা সেই বন্ধুটিকে আগেই মেনেজ করা।কিন্তু এভাবে আর কত দিন!সত্যি কথা বলতে কমবেশি সবাই কিন্তু আমরা মনের মধ্যে একটা সুপ্ত ইচ্ছে লুকিয়ে রাখি ফটোগ্রাফির জন্য।কিন্তু সামনে আসে বিভিন্ন অযুহাত।

ফটোগ্রাফি নামটা শুনলেই অনেকের মাথায় আসতে পারে ক্যামেরা!”আমার তো ক্যামেরা নাই,আমি কিভাবে ফটোগ্রাফার হবো?!”কিন্তু কথা হলো স্মার্টফোন তো আাছে!হাতে যদি একটা স্মার্টফোন থাকে তবে সেখান থেকেই কিন্তু আপনি আপনার ফটোগ্রাফি মিশন শুরু করতে পারেন।
এখন কিন্তু আমরা সবাই ফটোগ্রাফার কারন আমাদের প্রায় সবার হাতেই আছে স্মার্টফোন!কিন্তু সফল ফটোগ্রাফার কে?!

ফটোগ্রাফিটাকে অনেকে পছন্দের অবসর সময় হিসেবে আবার কেউ বেছে নিয়েছে পেশাদারি হিসেবে।কিন্তু যেকোনো ক্ষেত্রেই ভালো ফটোগ্রাফি কে না করতে চায়!তাই মাথায় রাখতে হবে কিছু বিষয়।চলুন যেনে নেওয়া যাক এ ব্যাপারে।

ক্যামেরা নির্বাচন :

অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে যে,দামি ক্যামেরা হতে হবে। ব্যাপারটা ঠিক সেরকম না।ফটোগ্রাফি সম্পূর্ণ সৃজনশীলতার একটা ব্যাপার।এখানে আপনার মনোনিবেশটাই সবচাইতে বড় বিষয়।ছবি তোলার ক্ষেত্রে আপনি একটা জিনিসকে কেমনভাবে দখছেন সেটা মূল কথা।দৃষ্টিভঙ্গি,বস্তুর অবস্থান,আকার ঠিক করা এসব মূল বিষয়।অনেকে সাধারন ক্যামেরা দিয়েও অসাধারণ ছবি তুলতে পারে এসব বিষয় ঠিক থাকলে।সুতরাং যাত্রাটা শুরু হোক সাধারন ক্যামেরা থেকে।তারমানে এই না যে,দামী ক্যামেরা থাকা খারাপ।অবশ্যই ক্যামেরার লেন্স,শ্যাডো এসব ম্যাটার করে।কিন্তু বড় কথা হলো আপনার ফোকাস।

কোন ধরনের ছবি তুলবেন :

এটা সম্পূর্ণ আপনার নিজস্ব ব্যাপার।পোর্টেট ফটোগ্রাফি,ফটো ডকুমেন্টারি,ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিসহ আরো বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি আছে।তবে পেশাগত ভাবে ফটোগ্রাফি নির্বাচন করলে সব বিষয়ের জানা ভালো।

আরো কোন বিষয়ে ধারনা রাখবেন :

ফটোগ্রাফি রিলেটেড যেকোনো বিষয়ে ধারনা রাখবেন।যেমন ফটোশপ, ইলুসট্রেটর,গ্রাফিকস ইত্যাদি।ফটোগ্রাফি রিলেটেড অনেক ম্যাগাজিন,বই,নিউজ পোর্টাল আছে,সেসবে নিয়মিত চোখ রাখা লাগবে।এছাড়া টেকনিক্যাল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা লাগবে।

প্রয়োগ :

দিনে দিনে ফটোগ্রাফির প্রয়োগ বেড়েই চলতেছে।ফটোজার্নালিজম,ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি,ওয়েডিং ফটোগ্রাফি,ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফটোগ্রাফি অনেক ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফির প্রয়োগ ক্রমবর্ধমান।তাই যারা ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে চান,তাদের জন্য অভিনন্দন।শুধু দরকার ধৈর্য এবং মনোনিবেশ। অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া লাগবে কিন্তু সেসবে থেমে গেলে চলবে না।সাফল্য আসবেই।

প্রসার :

আমরা অনেকেই ভালো ফটোগ্রাফি করি,কিন্তু লোকে কি বলবে এসব ভেবে আর সেটার প্রসার ঘটাই না।কিন্তু এভাবে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ না ঘটালে কিভাবে প্রুভ করবেন নিজেকে একজন সফল ফটোগ্রাফার হিসেবে!

তাই শুরুটা হোক ফেসবুক থেকেই।মোটামুটি সবাই এখন ফেসবুকে এক্টিভ। তাই আপনিও ঝটপট একটা পেজ খুলে নিজের তোলা বেস্ট ছবিগুলো সেখানে পোস্ট করতে থাকেন।বন্ধুদের ইনভাইট করেন।দেখবেন একবার শুরু করলেই সব জড়তা দুর হয়ে যাবে।এরপরে নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপনার তোলা সবথেকে সুন্দর ছবি সেখানে রাখলেন।এভাবে সবাই জানলো এবং আপনি নতুন করে উৎসাহও পাবেন কিন্তু।এভাবে আস্তে আস্তে অনলাইন থেকে অফলাইনেও কিন্তু নিজস্ব স্টুডিও খুলে আপনার পেশাগত জীবন ফোটোগ্রাফি দিয়ে শুরু করতে পারেন।

সবকিছুতেই প্রতিকূলতা আসবে,কিন্তু সেসময় থেমে থাকলে চলবে না।নতুন উদ্যমে সামনে এগোতে হবে।তাই, প্যাশন যদি হয় ফটোগ্রাফি,তবে আর নয় থেমে থাকা।শুরু করেই দেখি না এযাত্রায় কি হয়। সবার জন্য শুভকামনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।